বিকেল ৪:০৯
চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে জলাবদ্ধতা বিষয়ক সেমিনার
‘চট্টগ্রাম শহরে জলাবদ্ধতা : সংকটের উৎস ও নাগরিক দায়বদ্ধতা’ শীর্ষক সেমিনারে এ তথ্য জানিয়েছেন গবেষকরা। গতকাল শনিবার (৯ মে) চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে জুলাই বিপ্লব স্মৃতি হলে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

নগরের জলাবদ্ধতার পেছনে একক কোনো কারণ নেই। বরং একাধিক প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট কারণ কাজ করছে। ভৌগোলিকভাবে এই শহর পাহাড়, নদী, খাল, উপকূল, নিম্নভূমি এবং ঘন নগরায়ণের এক জটিল সমন্বয়ের উপর দাঁড়িয়ে আছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে অল্প সময়ের অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল, জোয়ারের প্রভাব এবং অপর্যাপ্ত নিষ্কাশন ব্যবস্থার কারণে নগরের অনেক এলাকায় নিয়মিত জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। জলাবদ্ধতা এখন আর শুধু অস্থায়ী পানি জমে থাকার ঘটনা নয়; এটি চট্টগ্রামের নগর ব্যবস্থাপনার একটি দীর্ঘমেয়াদি সংকেত।
‘চট্টগ্রাম শহরে জলাবদ্ধতা : সংকটের উৎস ও নাগরিক দায়বদ্ধতা’ শীর্ষক সেমিনারে এ তথ্য জানিয়েছেন গবেষকরা। গতকাল শনিবার (৯ মে) চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে জুলাই বিপ্লব স্মৃতি হলে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে বক্তারা বেশ কিছু সুপারিশ তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে ইমরাত নির্র্মাণ বিধিমালা অনুসরণ করা, পাহাড় না কাটা, উন্মুক্ত জলাশয় ভরাট রোধ করা, নগরের ৭২টি খাল পুনরুদ্ধার করে প্রকল্পভুক্ত করা, নালা–খালে ময়লা ফেললে জরিমানা ও শাস্তির আওতায় আনা, শহরের গুরুত্বপূর্ণ নালা–খালে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, নগরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ডাস্টবিন স্থাপন, নির্ধারিত স্থানে ময়লা ফেলতে নগরবাসীর মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি করা এবং পলিথিনমুক্ত শহর গড়ে তোলা।
সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। উদ্বোধক ছিলেন দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক। চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচির সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান ও সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার নুরুল করিম। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক শামসুল হক হায়দরী। সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. আল আমিন, চট্টগ্রাম প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর আয়েশা খানম ও বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটির ভিসি ড. মনজুরুল কিবরিয়া।
জলাবদ্ধতা নিয়ে আশার বাণী মেয়রের : সিটি মেয়র ড. শাহাদাত হোসেন দাবি করেন, আগামী বর্ষায় চট্টগ্রাম শহর ৭০ থেকে ৮০ ভাগ জলাবদ্ধতামুক্ত থাকবে। তিনি বলেন, আমি মনে করি জলাবদ্ধতাই আমাদের প্রধান সমস্যা। কিন্তু ২০২৫ সালে জলাবদ্ধতা যখন ৫০–৭০ ৫শতাংশ কমে চট্টগ্রাম শহর সুন্দর নগরীতে পরিণত হয়, তখন আমরা বেমালুম ভুলে গিয়েছিলাম জলাবদ্ধতা নামে কিছু ছিল কি না। যার কারণে অমুক ইস্যু তমুক ইস্যু চলে আসে। হঠাৎ করে বৈশাখের বৃষ্টি হওয়ার পর থেকে আবার জলাবদ্ধতা ইস্যুটা তৈরি হয়েছে। কিন্তু আমি আপনাদের আশা দিতে চাই। এখানে আমি কোনো নিরাশা দেখি না। শুধু একটা বিষয়কে ভয় পাচ্ছি, ওই জোয়ার, যেটা আমাদের কোনো নিয়ন্ত্রণে নেই। কিন্তু আশাও ব্যক্ত করছি, যেহেতু আমাদের কিছু স্লুইচগেট নির্মাণ করা হয়েছে।
ডা. শাহাদাত বলেন, আপনাদের (সাংবাদিক) ধন্যবাদ জানাই। আপনাদের বক্তব্যের কারণে গভর্নমেন্ট চট্টগ্রামের এই প্রজেক্টটা নিয়ে আরো বেশি কনসার্ন হয়েছে। আমরা হয়তো আরো বাজেট চাচ্ছি। এটা আমাদের লাভ হয়েছে। তিনি বলেন, প্রেজেন্ট মিনিস্টার ইজ ভেরি কনসার্ন। প্রধানমন্ত্রী দুঃখ প্রকাশ করেছেন জনগণের ভোগান্তির জন্য। এটা ঠিক যে জনগণের ভোগান্তি হয়েছে, আমি নিজেও দেখেছি, আমি ছিলাম তো। আমি পানির মধ্যে ছিলাম, আমার সামনে বাচ্চা মেয়েগুলো যাচ্ছে। তাদের বললাম, তোমরা যাবা না, যদি স্ল্যাব না থাকে তোমরা পড়ে যাবে। কাজেই ভোগান্তি হয়েছে। আসলে এখানে কিছু করার নেই। কিন্তু ভোগান্তিটা হয়েছে দীর্ঘমেয়াদি লাভের জন্য কাজগুলো করা হচ্ছিল। ওটা চিন্তার মধ্যে আসেনি চার–পাঁচ ঘণ্টা একটানা বৃষ্টি হবে। বাঁধগুলো খোলা হয়নি। বাঁধগুলো দেওয়া হয় রিটেইনিং ওয়াল দেওয়ার জন্য।
ছবি১টি
সংবাদ সম্মেলনটি শেয়ার করুন
